ব্লগিং

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার সহজ উপায়

বাংলাদেশে অনেকগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে সবার সেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় বাংলাদেশে । আজকের আলোচনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার সহজ উপায় আপডেট এই নিয়ে। 

প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করার। তবে স্বপ্ন দেখে শুধু বসে থাকলে হবে না সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হলে আপনাকে অনেক বেশি পরিশ্রমী হতে হবে। একজন শিক্ষার্থীর কাঙ্খিত স্বপ্নকে বাস্তবে পেতে হলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আজকে আমি শুধু আলোচনা করব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার উপায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চান্স পাওয়ার অনেকগুলো উপায় রয়েছে। আজকে আমি সেরা ও কার্যকরী কিছু উপায় সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করব ধারাবাহিকভাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পূর্বে প্রতিটি শিক্ষার্থীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার কতগুলো ইউনিট রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা থাকা।

এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য মোট পাঁচটি ইউনিট রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ‘ক’ ইউনিট, মানবিকের জন্য ‘খ’ ইউনিট এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য জন্য রয়েছে ‘গ’ ইউনিট। ‘ঘ’ ও ‘চ’ ইউনিটে সকল বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়।

শুধু ‘চ’ ইউনিটের কিছু শর্ত রয়েছে। শুধু ইউনিট সম্পর্কে ধারণা রাখলে চলবে না যে ইউনিটে আপনি পরীক্ষা দিবেন সেটির নম্বর বন্টন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা থাকতে হবে। কোন বিষয় থেকে কত নম্বরের প্রশ্ন হয় ইত্যাদি বিষয় জানতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার সহজ উপায়

আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির জন্য তারা পছন্দমত একটা কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে থাকে। আপনি যদি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই তাদের দেয়া লেকচার শিটগুলো ভালোভাবে আয়ত্ব করেন।

শুধু কোচিং সেন্টারের লেকচার শিটের উপর  নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না পাশাপাশি আপনাকে আরো বেশি পড়াশোনা করতে হবে। আপনি যদি মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী হন তবে আপনাকে অবশ্যই সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞানের ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে। এজন্য আপনি নিয়মিত পত্রিকা পড়তে পারেন অথবা সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞান বিষয়ক কোন বই কিনে আয়ত্ত করতে পারেন।

কোন কোচিং সেন্টারের সাজেশন থেকে খুব বেশি পরীক্ষায় কমন থাকবে না। এজন্য আপনাকে বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হবে। আপনি যদি মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী হন, তবে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ের উপর শক্ত প্রস্তুতি নিতে হবে।

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমসিকিউ প্রশ্নের পাশাপাশি লিখিত প্রশ্ন নিয়ে থাকে। তাই আপনাকে ভালো লিখিত প্রস্তুতি নেয়ার জন্য ইংরেজিতে ফ্রি-হ্যান্ড লেখার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এটা বর্তমানে সকল বিভাগের জন্য অত্যাবশ্যক করনীয় কাজ।

ইংরেজিতে পারদর্শী হওয়ার জন্য আপনার ভোকাবুলারি জ্ঞান ভালো থাকতে হবে। এজন্য বাজার থেকে ভালো কিছু ভোকাবুলারি বই কিনতে পারেন। বই কেনার পূর্বে অভিজ্ঞ বড় ভাইদের নিকট থেকে পরামর্শ নিলে ভালো হয়। তবে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ভোকাবুলারি ভয় হল বই হল সাইফুর্স ভোকাবুলারি।

See also  ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

ইংরেজি গ্রামার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য আপনি বাজার থেকে ইংলিশ ফর কম্পেটিটিভ এক্সামস বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে ভালো প্রস্তুতি নিতে হয়। বাজারে অনেক ধরনের সাধারণ জ্ঞান বই রয়েছে। অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে ভালো একটা সাধারণ জ্ঞান বই কিনে পড়া শুরু করে দিন। 

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা একাডেমিক পড়াশোনা বেশি কাজে লাগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতে হলে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন ও বিপণন বোর্ড বই ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।

ইংরেজি ও বাংলা বই ভালোভাবে আয়ত্ত করার পাশাপাশি বাজার থেকে ভর্তি প্রস্তুতির জন্য যে কোন কোম্পানির একসেট কিনলে যথেষ্ট হবে। তবে একজন শিক্ষার্থী যদি পাঠ্যপুস্তক বইয়ের উপর ভালো দখল থাকে তবে সে নিঃসন্দেহে ভালো করবে।

বাংলা ও ইংরেজি সকল বিভাগের শিক্ষার্থীর জন্য একই হবে। ইউনিটভেদে কিছু কিছু টপিক শুধু মিলবে না। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইংরেজি প্রথম পত্র বইটি ভালোভাবে আয়ত্ত করা অত্যাবশ্যক।

তবে এ কাজটি ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য না করলেও চলে। এভাবে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যপুস্তক বইগুলো ভালোভাবে রপ্ত করতে পারলে হবে। যদিও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমানে কোচিং করা বাধ্যতামূলক মনে করা হয়। অর্থনৈতিক সমস্যা না থাকলে বিজ্ঞান বিভাগ বা যে কোন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অবশ্যই কোচিং সেন্টারে ভর্তি হবে।

See also  সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর গুরুত্বপূর্ণ

তবে কোচিং সেন্টার নির্বাচন করার পূর্বে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার মূলমন্ত্র হলো বিগত বছরের প্রশ্নপত্রগুলো বিশ্লেষণ করা। আপনি যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতে চান তবে এ কাজটি আপনাকে অবশ্যই সম্পাদন করতে হবে।

প্রথমে আপনাকে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো বের করতে হবে। এরপর আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে এবং পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ টপিক সংশ্লিষ্ট কাছাকাছি ধরনের আরো টপিক আয়ত্ত করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির জন্য বিগত বছরের প্রশ্ন এনালাইসিস করা অত্যাবশ্যক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো অনুসরণ করে বেশিরভাগ প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। তাই আপনাকে বিগত বছরের প্রশ্ন প্যাটার্ন অনুসরণ করে পড়াশোনা করতে হবে।

শেষ কথা

আশাকরি উপরিস্থিত টিপসগুলো অনুসরণ করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া আপনার জন্য সহজ হবে। আপনি যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতে চান অবশ্যই উপরের উপায়গুলো অনুসরণ করে এগিয়ে যান ইনশাল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা আসন জয় করতে পারবেন। আজকের আর্টিকেল ঢাবিতে চান্স পাওয়ার উপায় আশাকরি আপনার ভালো লেগেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button