প্রযুক্তি

ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায় ২০২২

আপনার যদি একটা ওয়েবসাইট থাকে তবে মনে মনিটাইজ করে আয় করতে পারবেন । হ্যাঁ , আমি সত্যি কথাই বলছি! আজকে আমি আলোচনা করব ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায় ২০২২ আপডেট বিষয়াবলী নিয়ে।

আজকের সম্পূর্ণ আর্টিকেল মনোযোগ দিয়ে পড়লে আশা করি উপকৃত হবেন। এখন মানুষ চাইলে ঘরে বসে বা শখের বসে ঘরে বসে ওয়েবসাইট খুলে মনিটাইজ করে ইনকাম করা সম্ভব। এটা খুব বেশি নতুন কিছু নয়। অনেকদিন আগে শুধু ইংরেজি আর্টিকেল লিখলে ওয়েবসাইট খুলে মনিটাইজ পাওয়া যেত। তবে এখন বাংলা আর্টিকেল লিখলে গুগল মনিটাইজ দিচ্ছে।

আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট খুলে দিনের-পর-দিন আর্টিকেল পাবলিশ করতে থাকেন তবে একটা সময় সেটা আপনার বড় আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়াবে বলে আমি মনে করি। প্রথম অবস্থায় ওয়েবসাইট থেকে খুব বেশি আয় করা সম্ভব হয় না। এজন্য লেগে থেকে কাজ করতে হবে তাহলে একসময় আপনি সফলতার মুখ দেখতে পারবেন।

প্রথমে ওয়েবসাইট খুলতে হলে আপনার প্রয়োজন পড়বে ডোমেইন ও হোস্টিং এই দুইটা জিনিসের। তবে খুব বেশী খরচ হবে না এজন্য। আপনি স্বল্পমূল্যে দেশীয় কোম্পানি অথবা বিদেশী কোন হোস্টিং প্রোভাইডার থেকে এগুলো কিনে নিতে পারবেন। এছাড়া আপনি শুধু ডোমেইন কিনে blogger.com থেকে হোস্টিং ছাড়াই ওয়েবসাইট চালু করতে পারবেন।

ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়

আজকে শুধু আমরা জানবো ওয়েবসাইট খুলে কত উপায়ে আয় করা যায় সে সম্পর্কে। আপনি নিজের ওপর গুলো অনুসরণ করলে ওয়েবসাইট খুলে আয় বৃদ্ধি করতে পারবেন।

আপনি যদি ওয়েবসাইট খোলার চিন্তাভাবনা করে থাকেন তবে নিচের উপায়গুলো জেনে নিতে পারেন যেগুলো থেকে আপনি ওয়েবসাইট খোলার মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। তো চলুন জেনে নেয়া যাক ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে আয় করা যায় সে সম্পর্কে:

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করার অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় মাধ্যম হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করা। বর্তমানে অধিকাংশ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারগণ ওয়েবসাইট তৈরি করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে থাকে। এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য যেসব ওয়েবসাইট তৈরি করা হয় সেগুলো মূলত কোন কোম্পানির পণ্য বা সেবা রেফারেন্স করে থাকে।

See also  মোবাইল ফোনের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায় ২০২২

আপনি চাইলে নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী সম্পর্কে ইতিবাচক রিভিউ লিখে আপনার ওয়েব সাইটে কনটেন্ট পাবলিশ করতে পারেন। আপনার ওয়েবসাইটে আসা ভিজিটর আর্টিকেলটি পড়ে ভালো লাগলে সে সম্পর্কিত পণ্যটি ক্রয় এর জন্য উৎসাহী হতে পারে।এভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং করা হয়।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এ মূলত কোন কোম্পানির পণ্য ভিজিটরদের রিকমেন্ডেড করা হয়। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার পণ্যটি আর্টিকেলের কনটেন্ট সম্পর্কিত হতে হবে। আপনি আপনার আর্টিকেল এর মাঝে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার লিঙ্কটি শেয়ার করতে পারবেন। আপনার লিংকটি ব্যবহার করে ট্রাফিক আপনার ওয়েবসাইট থেকে শেয়ারকৃত লিংক ব্যবহার করে পণ্য ক্রয় করলে তার জন্য আপনি কমিশন পেয়ে থাকবেন।

একেক কোম্পানির কমিশন প্রদানের হার ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে ক্ষেত্রবিশেষে দেখা যায় কমিশনের হার সাধারণত ৩০% থেকে ৭০% হয়ে থাকে। আপনার সুবিধার জন্যে আমরা নিচে কিছু এফিলিয়েট কোম্পানির নাম উল্লেখ করব তাদের লিংকসহ :

  • Amazon
  • Commission Junction
  • Clickbank

উল্লেখিত এই কোম্পানিগুলো অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম বর্তমানে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ কমিশন প্রদান করছে। আপনি চাইলে উপরের যে কোন কোম্পানির লিংক ব্যবহার করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন।

আপনি চাইলে একই কোম্পানির একাধিক পণ্য নিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন। অথবা আপনি চাইলে একাধিক কোম্পানির এখানে অন্য নিয়েও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন।

গুগল এডসেন্স থেকে আয়

ওয়েবসাইট খুলে আয় করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল আলোচিত উপায় হচ্ছে গুগল এডসেন্স থেকে আয় করা। গুগল এডসেন্স হলো গুগলেরই একটি প্রোডাক্ট যেটি ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেল বা অ্যাপে এডস প্রদর্শন করার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়।

গুগল এডসেন্স থেকে বর্তমানে ওয়েবসাইট খুলে ভালো পরিমাণ টাকা আয় করা সম্ভব হচ্ছে। ইংরেজি ব্লগ সাইট থেকে মাসে একটা ভালো পরিমাণ টাকা আয় করা যায়।

প্রতি মাসে ওয়েবসাইট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করে এমন লক্ষ লক্ষ মানুষ পৃথিবীতে আছে। আমাদের বাংলাদেশ থেকে অনেকে ওয়েবসাইট খুলে সেখানে গুগল এডসেন্স ব্যবহার করে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে প্রতিনিয়ত এমন হাজার হাজার ব্লগার রয়েছে।

See also  একজন ভালো ফটোগ্রাফার হতে চাইলে যা যা শেখা আবশ্যক

গুগল এডসেন্স বর্তমানে অনলাইন থেকে আয় করার একটি নির্ভরশীল মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুগল এডসেন্স পরিচালনা করা বর্তমানে অনেক সহজ। যে কেউ গুগল এডসেন্স পর্যবেক্ষণ করে খুব সহজে সেটা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতে পারে।

গুগল এডসেন্স পেতে হলে আপনাকে তাদের কিছু সত্য ফিলাপ করতে হবে। গুগল কর্তৃক নির্ধারিত কিছু কন্ডিশন অনুসরণ করে আপনি গুগল এডসেন্স নিতে পারবেন। গুগল এডসেন্স আপনার আর্টিকেলের মূল কিওয়ার্ডগুলো খুঁজে বের করে সেই অনুযায়ী সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে থাকে। এটা মূলত আপনার সার্চ হিস্ট্রি ও ব্রাউজারের ক্যাশ ডেটা ব্যবহার করে এ কাজটি করে থাকে।

গুগল মূলত প্রতি ক্লিকে বিনিময় একটা নির্দিষ্ট পরিমান অ্যামাউন্ট তাদের পাবলিশারকে প্রদান করে থাকে। যেটাকে আমরা সিপিসি হিসেবে জেনে থাকবো। সিপিসি মানে হল পেইড পার ক্লিক যাকে ইংরেজিতে আমরা বলি CPC ( Paid Per Click) ।

গুগল থেকে প্রদানকৃত সিপিসি কিওয়ার্ড ও অবস্থান ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। উন্নত দেশের ক্লিক আপনার ওয়েবসাইটের গুগল এডসেন্সের এডে পড়লে আপনাকে তখন গুগল এডসেন্স সবচেয়ে বেশি সিপিসি প্রদান করবে । গুগল এডসেন্স পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই তাদের কন্ডিশন ফিলাপ করে আবেদন করতে হবে। গুগল এডসেন্স পেতে আপনাকে তাদের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে ইমেইল দিয়ে সাইন আপ করার মাধ্যমে নিজের ওয়েবসাইট সাবমিট করতে হবে।

সাইন আপ করার সময় একটা এইচটিএমএল কোড আপনাকে প্রদান করেন সেটি আপনার ওয়েবসাইটে হেড সেকশনে বসাতে হবে।

তারপর গুগল আপনার ওয়েবসাইট রিভিউ করে অ্যাপ্রুভাল প্রদান করবে। আপনার ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্স নিশ্চিত করার জন্য তাদের পলিসিগুলো অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

ওয়েবসাইট বিক্রি করে আয়

আপনি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেটি বিক্রি করে আয় করতে পারবেন। আপনি দুইভাবে ওয়েবসাইট বিক্রি করে আয় করতে পারবেন। প্রথমত আপনাকে যদি কেউ ওয়েবসাইট তৈরি করে দিতে বলে তবে তার জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করে সেটি তার কাছে বিক্রি করতে পারবেন।

See also  মোবাইল ফোন সাধারণত কত ভোল্টে চার্জ করা হয় জানুন

দ্বিতীয়ত হলো আপনি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেটি গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রুভ করে বিক্রি করে দিতে পারেন।
আপনার ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্রুভাল পেতে হলে আপনার ওয়েবসাইটে হাই কোয়ালিটি ইউনিক আর্টিকেল লিখতে হবে।

আপনি যদি বাংলায় আর্টিকেল লিখেন তবে আপনার ওয়েবসাইটে বেশ কিছুসংখ্যক হাই কোয়ালিটি আর্টিকেল লিখে রাখবেন। আর্টিকেল লেখার পূর্বে সেগুলো ভালো করে এসইও অপটিমাইজ করে নিতে হবে। এছাড়া আর্টিকেল লেখার পূর্বে ভালো করে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে নিতে হয়। তারপর আপনার ওয়েবসাইটে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পেজ যোগ করতে হবে।

গুগল সার্চ ইঞ্জিনে সেগুলো সাবমিট করে ইন্ডেক্স করিয়ে নিতে হবে। তারপর আপনি গুগল এডসেন্স এর জন্য আবেদন করবেন। গুগল যখন আপনার ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভাল প্রদান করবে তখন সেটি আপনি চাইলে বেশি দামে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে বিক্রি করে দিতে পারবেন। বাংলাদেশের লোকাল মার্কেটে আপনি চাইলে সেটা বিক্রি করে দিতে পারেন।

এজন্য আপনাকে সাইট সম্পর্কিত বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রুপে এড হয়ে থাকতে হবে। ওয়েবসাইট গুগল এডসেন্স এড করিয়ে অনুমোদন পেলে সেটি খুব ভালো দামে আপনি বিক্রি করতে পারবেন। বাংলাদেশে বর্তমানে গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভাল ওয়েবসাইট ৮,০০০ থেকে ২,০০,০০০ টাকা হয়ে থাকে। ওয়েবসাইটের কন্ডিশনারের দাম ভিন্ন হয়ে থাকে।

তবে নতুন কোনো ফ্রেশ গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভাল ওয়েবসাইট সাধারণত বর্তমানে বাংলাদেশে ৭,৫০০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকা হয়। এভাবে আপনি করে ওয়েবসাইট বিক্রি করে প্রচুর টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন।

আমাদের কথা

আজকে আমাদের আর্টিকেলের মূল আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে আয় করা যায় সে সম্পর্কে। আমরা বেশ কিছু উপায় সম্পর্কে উপরে আলোকপাত করেছি। আশা করি আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনি ওয়েব সাইট থেকে আয় করার উপায় সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করেছেন। আজকের আর্টিকেল পড়ে উপকৃত হলে নিজেদের সার্থক মনে হবে।

এরকম অনলাইন থেকে আয় সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল পড়তে চাইলে আপনি আমাদের আরও আর্টিকেল দেখতে পারেন। আমরা একদম সত্যনিষ্ঠ তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button