ব্লগিং

ব্লগে ভিজিটর বাড়ানোর সেরা উপায় ২০২২

যেকোনো ওয়েবসাইটের জন্য ভিজিটর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ভিজিটর হলো ওয়েবসাইটের প্রাণস্বরূপ। ভিজিটর ছাড়া কোন ওয়েবসাইটের মূল্য নেই। একটা ব্লগ সাইটে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ ট্রাফিক না আসে তাহলে কখনই সেই ব্লগ প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারবে না। এজন্য ভিজিটরকে ওয়েবসাইটের প্রাণভোমরা বলা হয়। এটা ছাড়া ওয়েবসাইট এর অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। তাই আজকের পোষ্টে আলোচনার বিষয় হলো ব্লগে ভিজিটর বাড়ানোর সেরা উপায় ২০২২ নিয়ে।

একজন ব্লগারের পরিশ্রম তখনই সার্থক হবে যখন ব্লগ সাইটে পর্যাপ্ত পরিমাণ ট্রাফিক থাকবে। একটা ওয়েবসাইট থেকে আয় করতে চাইলে পর্যাপ্ত পরিমান ভিজিটর থাকা আবশ্যক। নতুবা আপনি কখনো টাকার মুখ দেখতে পারবেন না। ওয়েবসাইটে পর্যাপ্ত পরিমাণ ট্রাফিক আনতে হবে নতুবা আপনি টাকার মুখ বলেন কিংবা পরিচিত হওয়ার কথা বলে কিংবা নিজের কষ্ট সার্থক করার কথা বলেন কোনটিই হবে না।

ব্লগে ভিজিটর বাড়ানোর উপায়

সঠিক গাইডলাইন মেনে চললে ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনা অসম্ভব কিছু নয়। আমি আজকে আলোচনা করবো ব্লগে ভিজিটর আনার উপায় নিয়ে। আপনারা যারা ভাবছেন, ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনতে হবে এবং আশানুরূপ ফল পেতে চান, তবে আজকের পোস্ট ব্লগে ভিজিটর আনার উপায় সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে শেষ অবধি পড়তে হবে।

নিয়মিত আর্টিকেল পাবলিশ করা

আপনার ওয়েবসাইটে অবশ্যই নিয়ম মেনে আর্টিকেল পাবলিশ করতে হবে। ওয়েবসাইটে ভিজিটর ধরে রাখতে চাইলে নিয়মিত আর্টিকেল পাবলিশ করার কোনো বিকল্প নেই। একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর আর্টিকেল পাবলিশ করলে ভিজিটরগন ঐ নির্দিষ্ট সময়েই ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে আসবে।

ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনতে চাইলে নিয়মিত অবশ্যই আর্টিকেল পাবলিশ করতে হবে। নতুবা কখনোই আপনার ব্লগ সাইটে ভিজিটর এনে ধরে রাখতে পারবেন না।

আমি নিয়মিত বলতে একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর সময়কে বুঝিয়েছি। আপনি প্রতিদিন একটা আর্টিকেল অথবা প্রতি সপ্তাহে একটা আর্টিকেল কিংবা প্রতিমাসে একটা আর্টিকেল প্রকাশ করবেন।
তাহলে ধীরে ধীরে আপনার ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বৃদ্ধি পাবে এবং যথারীতি সেই ডিজিটাল বৃদ্ধি পাওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

See also  ফ্রিল্যান্সিং কি এবং এর কাজ সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

সুতরাং একদিনে অনেকগুলো পোস্ট না করে নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময় পরপর করতে হবে।

মানসম্মত আর্টিকেল লেখা

আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিটর বৃদ্ধি না পাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ওয়েবসাইটে মানসম্মত কোয়ালিটি আর্টিকেল প্রকাশ না করা। যার ফলে ভিজিটরগন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেই বের হয়ে যায় যা ওয়েব সাইটের বাউন্স রেট বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে। ফলে আমাদের ওয়েবসাইট বেশি বড় করা সম্ভব হয় না।

আমাদের ওয়েবসাইটের আর্টিকেলের মানের উপর নজর দিতে হবে। প্রয়োজনে কম আর্টিকেল পাবলিশ করে মানসম্মত কোয়ালিটি আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করতে হবে। মানসম্মত আর্টিকেল পাবলিশ করলে ভিজিটর আপনার সাইটে প্রবেশ করে মনোযোগ দিয়ে সম্পূর্ণ আর্টিকেল পড়বে এবং পাশাপাশি অন্যান্য আর্টিকেলগুলো পড়ার চেষ্টা করবে।

আপনার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা আর্টিকেল যদি তথ্যবহুল ও উপকারী হয় তবে অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটের নাম ভিজিটর মনে রাখবে। মানসম্মত আর্টিকেল নিয়মিত প্রকাশ করলে ভিজিটর মাঝেমধ্যে আপনার ওয়েব সাইটে ঢুঁ মেরে দেখতে আসবে আপনি আর্টিকেল পাবলিশ করেছেন কিনা।

অন্যদিকে, আপনার ওয়েবসাইটের আর্টিকেল এর মান যদি একেবারে নিম্ন মানের হয়, তবে দ্বিতীয় বার ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে মনের ভুলেও প্রবেশ করবে না। আর্টিকেল এর মান বজায় রাখলে একটা সময় পর আপনার ওয়েবসাইট জনপ্রিয় হয়ে যাবে এবং অনেকের কাছে পছন্দ হওয়া শুরু হবে।

মানহীন আর্টিকেল দিনে অনেকগুলো পাবলিশ করলেও ভিজিটর যদি আসে তবে তারা অন্যান্য আর্টিকেলগুলো পড়বে না। পাশাপাশি আপনার ওয়েবসাইটের প্রতি ভিজিটরের দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক হয়ে যাবে। আপনার ওয়েবসাইটের কোনো আর্টিকেল গুগল সার্চ ইঞ্জিনে আসলে তারা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে।

সুতরাং আপনার উচিত হবে অযথা অতিরিক্ত আর্টিকেল পাবলিশ না করে, নিয়মিত অল্প পরিমাণে মানসম্মত কোয়ালিটি আর্টিকেল পাবলিশ করার চেষ্টা করা।

ওয়েবসাইট সার্চ ইন্জিনে সাবমিট করা

আপনার ওয়েবসাইটের কাঙ্খিত ভিজিটর আনতে সাহায্য করবে সার্চ ইঞ্জিন। কেননা ভিজিটর সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করলে আপনার ওয়েবসাইটে থাকলে সেটি তাদের কাছে চলে যাবে। এভাবে আপনি গুগল সার্চ ইঞ্জিন বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভালো পরিমাণ টার্গেটকৃত ট্রাফিক পেয়ে যাবেন। অর্গানিক ভিজিটর ওয়েবসাইটে নিতে চাইলে কোনরকম কষ্টের প্রয়োজন হবে না।

এজন্য আপনার ওয়েবসাইটে মানসম্মত কোয়ালিটি আর্টিকেল থাকা অত্যাবশ্যক এবং পাশাপাশি আপনার ওয়েবসাইটিকে সকল প্রকার সার্চ ইঞ্জিনে সাবমিট করতে হবে।

See also  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার সহজ উপায়

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করা

ব্লগে ভিজিটর বাড়ানোর অন্যতম একটা উপায় হচ্ছে এটি। বাস্তব জীবনে সমাজে বসবাস করার ফলে যেমন আমরা অনেকের সাথে পরিচিত হয়ে অনেক কিছু শেয়ার করতে পারি তেমনি অনলাইন জীবনে আমরা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রোফাইল তৈরি করে এই কাজটি করতে পারি।

অনলাইনে বিভিন্ন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রোফাইল তৈরি করে আপনাকে ফলোয়ারের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ফলোয়ার বা ফ্রেন্ড এর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের আর্টিকেলগুলো সেখানে শেয়ার করতে পারেন। পাশাপাশি আপনার বন্ধুদেরকে আর্টিকেলগুলো শেয়ার করার অনুরোধ করার

আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্টটি ভালো মানের ও কার্যকরীভাবে তৈরি করেন তবে অধিকাংশ বন্ধু আপনার আর্টিকেলটি শেয়ার করবে। নতুবা আপনার কোন বন্ধু আপনার আর্টিকেলটি শেয়ার করবে না। সুতরাং বলা যায়, সবকিছুর মূলে রয়েছে মানসম্মত কোয়ালিটি আর্টিকেল। এজন্য আপনার ওয়েবসাইটের আর্টিকেলের মানের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

ব্যাকলিংক তৈরি করা

নতুন ব্লগে ভিজিটর বাড়ানোর সবচেয়ে উত্তম উপায় হচ্ছে ব্যাকলিংক তৈরি করা। ব্যাকলিংক তৈরি করার পূর্বে আর্টিকেল অবশ্যই কোয়ালিটি সম্পন্ন হওয়া আবশ্যক। কিছু কোয়ালিটি সম্পন্ন আর্টিকেল ব্যাকলিংক তৈরি করার মাধ্যমে ওয়েবসাইটে প্রচুর পরিমাণে ভিজিটর আনতে পারবেন।

ভালো কোয়ালিটি সম্পন্ন ওয়েবসাইট থেকে ব্যাক লিঙ্ক করার মাধ্যমে ভিজিটর আনতে পারলে ওয়েবসাইট গুগলের সার্চ ইঞ্জিনে রেঙ্ক করতে সাহায্য হবে।

হাই কোয়ালিটি সম্পন্ন ওয়েবসাইট থেকে ব্যাংক লিঙ্ক করতে না পারলে সেটা তেমন কাজে দিবে না। সুতরাং একজন ব্লগারকে ব্যাকলিংক করার পূর্বে সাইটের কোয়ালিটি চেক করে নিতে হবে। নতুবা হাজার হাজার ব্যাকলিংক তৈরী করে তেমন কোনো ফল পাওয়া যাবে না।

ভিডিও মার্কেটিং করা

ভিডিও মার্কেটিং করে পর্যাপ্ত পরিমাণ ট্রাফিক ওয়েবসাইটে আনা সম্ভব। বর্তমানে অনলাইনে মানুষজন লেখার চেয়ে ভিডিওকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ভিডিও মার্কেটিং করতে চাইলে আপনার জন্য ইউটিউব উত্তম হবে বলে আমি মনে করি। ইউটিউব বর্তমানে ভিডিও শেয়ারিং সাইটগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় একটা সাইট।
ইউটিউবে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ ভিডিও দেখতে আসে।

ইউটিউব থেকে ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে নিতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই প্রথমে একটা ইউটিউব চ্যানেল খুলে নিতে হবে। ইউটিউব চ্যানেল খোলার পর আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের বিষয় সম্পর্কিত ভিডিও নিয়মিত আপলোড করে যেতে হবে।

See also  বাংলাদেশ ন্যাশনাল ঈদ কার্ড চেক অনলাইন ট২১

আপনি আপনার ভিডিওর ডেসক্রিপশনে ওয়েবসাইটের লিঙ্ক শেয়ার করে ভালো পরিমাণ ট্রাফিক আপনার ব্লগে নিতে পারবেন।

কিওয়ার্ড রিসার্চ করা

আপনি কোন আর্টিকেল লিখতে গেলে অবশ্যই কিওয়ার্ড রিসার্চ করে নিতে হবে। কিওয়ার্ড রিসার্চ করে আর্টিকেল লিখে সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভিজিটর পাওয়া সম্ভব হবে। কিওয়ার্ড রিসার্চ করে আর্টিকেল না লিখলে আপনার ওয়েবসাইটটি কখনো গুগল সার্চ ইঞ্জিনে রেংকিং করবে না। আপনার ওয়েবসাইটটি যদি নতুন হয় তবে অবশ্যই লো কম্পিটিশন কিওয়ার্ড নিয়ে আর্টিকেল লেখা শুরু করতে হবে।

ওয়েবসাইটের অথরিটি যখন বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার ওয়েবসাইটের বয়স যখন বৃদ্ধি পাবে তখন ধীরে ধীরে আপনার ওয়েবসাইটটি গুগল প্রথম পেজে আসা শুরু করবে।

তখন আপনি চাইলে হাই কম্পিটিশন বা মধ্যম মানের কম্পিটিশন সমৃদ্ধ কিওয়ার্ড নিয়ে আর্টিকেল লেখা আরম্ভ করতে পারেন। নতুন অবস্থায় হাই কম্পিটিশন কিওয়ার্ড নিয়ে আর্টিকেল লেখা শুরু করলে আপনি কখনো টপ ওয়েবসাইটগুলোকে টপকে প্রথমে আসতে পারবেন না।

সুতরাং আপনার উচিত হবে আর্টিকেল লেখার পূর্বে ভালোভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে আর্টিকেল লেখা। এতে করে আপনি কাঙ্খিত ভিজিটর গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে পাবেন। ফলে আপনার নতুন ব্লগে ভিজিটর বৃদ্ধি পাবে।

ইয়াহু প্রশ্নের উত্তর করা

নতুন ব্লগে ভিজিটর বাড়ানোর অন্যতম কার্যকরী একটি সেরা মাধ্যমে হচ্ছে এটি। আপনি চাইলে আপনার ওয়েবসাইটের ট্রাফিকের বন্যা বইয়ে দিতে পারেন এই কাজটি করার মাধ্যমে।

এজন্য আপনাকে নিয়মিত ইয়াহুর প্রশ্ন উত্তর পর্বে অংশ গ্রহণ করে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিচে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক সংযোজন করে দিতে হবে।

প্রশ্নের উত্তরগুলো দেয়ার পূর্বে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে প্রশ্নগুলো যেন আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কিত হয়ে থাকে। এভাবে চাইলে আপনি প্রতিদিন ভালো পরিমাণ ট্রাফিক আপনার ওয়েবসাইটে নিয়ে যেতে পারবেন।

আমাদের কথা

আশা করছি আজকের আর্টিকেল, ব্লগে ভিজিটর বাড়ানোর উপায় পড়েরে আপনারা উপকৃত হয়েছেন। আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিক বৃদ্ধি করতে চাইলে উপরোক্ত উপায়গুলো প্রয়োগ করতে পারেন।

আমার দেওয়া টিপসগুলো অনুসরণ করলে আশাকরি আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিক আনতে সক্ষম হবেন। আপনার কোনো পরামর্শ বা মতামত কিংবা প্রশ্ন থাকলে আমাদের অবশ্যই জানাতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button